দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। সামনের দিনগুলোয় দেশ দুটি বিভিন্ন খাত বিশেষত জ্বালানি, টেক্সটাইল ও নার্সিংয়ে একসঙ্গে কাজ করতে চায়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি কেইনলেট এ তথ্য জানান। ‘দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পেরিয়ে: বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সহযোগিতার নতুন পথ উন্মোচন’ শীর্ষক কান্ট্রি লেকচারের আয়োজন করে বিআইআইএসএস।
রাষ্ট্রদূত কেইনলেট বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন কীভাবে বিভিন্ন খাতে আরো ঘনিষ্ঠ হতে পারে, তা নিয়ে আমরা কাজ করব। অভিন্ন মূল্যবোধ, উন্নয়ন অগ্রাধিকার এবং জ্বালানি, কৃষি ও শিক্ষার মতো খাতে বৃহত্তর সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মেরিটাইম কো-অপারেশনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করতে পারি, এ বিষয়ে বাংলাদেশের আগ্রহ আছে। এছাড়া মেরিটাইম শিপিং, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, জলবায়ু মোকাবেলা বিশেষ করে বন্যা মোকাবেলায় সহযোগিতা করতে পারি।
আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও টেকসই প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।’
বাংলাদেশীদের জন্য ফিলিপাইনের ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভিসা সহজ করলে অনেক কিছু সহজ হয়ে যায়। তবে এটা একটি চলমান প্রক্রিয়া।’
কেইনলেট বলেন, ‘আমরা একটি পদক্ষেপ একবারই নিই—কীভাবে ভিসানীতি সহজ করা যায়, তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার। সাবেক রাষ্ট্রদূত অফিশিয়াল ও কূটনৈতিক পাসপোর্টে ভিসা অব্যাহতি সুবিধা চালুর জন্য একটি সমঝোতা করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এভাবেই এক-একটি উদ্যোগ নেয়া হয় ও আমরা তার সমাপ্তির পথে এগিয়ে যাই।’
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। তিনি বাংলাদেশ ও ফিলিপাইনের মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জনগণের সঙ্গে যোগাযোগ ও সামুদ্রিক সহযোগিতার নতুন মাত্রা অন্বেষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাবেক ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব মো. রুহুল আলম সিদ্দিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তারা বাংলাদেশ-ফিলিপাইন সম্পর্ক আরো গভীর করার বিষয়ে মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরেন।